প্রযুক্তি · অপারেটিং সিস্টেম · ইতিহাস
Unix এবং তার উত্তরসূরিরা
যে অপারেটিং সিস্টেম দুনিয়াটাকে নিঃশব্দে বদলে দিয়েছে
কম্পিউটার চালু করলে যে জিনিসটার কথা সবচেয়ে কম মাথায় আসে, সেটাই আসলে সব চালায়। অপারেটিং সিস্টেম — এই একটা সফটওয়্যার না থাকলে বাকি সব অচল। আর অপারেটিং সিস্টেমের ইতিহাসে যদি একটাই নাম সবচেয়ে বেশি ছাপ রেখে থাকে, সেটা হলো Unix। এটা শুধু একটা সফটওয়্যার না — এটা একটা চিন্তার ধারা, একটা দর্শন, যেটা আজও বেঁচে আছে কোটি কোটি ডিভাইসের ভেতরে।
শুরুটা হয়েছিল একটা ছোট্ট ঘরে
Unix যা শিখিয়ে গেছে
Unix-এর মূল দর্শনটা খুব সহজ কথায় বলা যায় — ছোট করো, পরিষ্কার রাখো, একটাই কাজ ভালোভাবে করো। এই ধারণাকে বলে Unix Philosophy।
আরেকটা বড় ধারণা ছিল — "সবকিছুই একটা ফাইল।" কীবোর্ড? ফাইল। প্রিন্টার? ফাইল। নেটওয়ার্ক connection? সেটাও ফাইল। এই একটা ধারণা পরবর্তী পঞ্চাশ বছরের OS design-কে প্রভাবিত করেছে।
Unix-ই প্রথম দেখাল যে একটা কম্পিউটারে একসাথে অনেক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে, একজনের কাজ আরেকজনের সাথে গুলিয়ে যাবে না। আজকের cloud server বা shared hosting — এই ধারণারই বড় হয়ে ওঠা।
Unix-এর অনুরূপ — আধুনিক উত্তরসূরিরা
Unix বাণিজ্যিক হয়ে যাওয়ার পর যে সিস্টেমগুলো জন্ম নিল, সেগুলো আজকে পুরো দুনিয়া চালাচ্ছে।
Linux
মজার জন্য লেখা kernel আজ পৃথিবীর বেশিরভাগ server, Android ফোন এবং মহাকাশ স্টেশন চালায়।
৯৬% top server-এ LinuxFreeBSD
আসল Unix কোডের সরাসরি উত্তরাধিকারী। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অতুলনীয়।
Netflix ও PlayStation-এmacOS
BSD-এর উপর তৈরি certified Unix। Terminal খুললেই আসল পরিচয় বের হয়ে আসে।
Officially Unix certifiedAndroid
Linux kernel-এর উপর চলে, তাই Unix-এর পরিবারের সদস্য। হাতের ফোনেই Unix।
৩+ বিলিয়ন ডিভাইসেLinux — "এটা বড় কিছু হবে না"
১৯৯১ সালে Linus Torvalds একটা newsgroup-এ পোস্ট করলেন যে সে মজার জন্য একটা ছোট্ট kernel বানাচ্ছে।
"এটা GNU-র মতো বড় বা professional কিছু হবে না।" — Linus Torvalds, ১৯৯১
সেই "মজার জন্য" লেখা kernel-টাই আজকে পৃথিবীর বেশিরভাগ server চালায়। Android ফোন চালায়। মহাকাশের স্যাটেলাইট চালায়। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় understatement হয়তো এটাই।
পকেটে Unix
তোমার হাতের Android ফোনটাও Unix-এর পরিবারের সদস্য। Android চলে Linux kernel-এর উপর, আর Linux এসেছে Unix-এর অনুপ্রেরণায়। মানে Bell Labs-এর সেই ছোট্ট ঘরে যে ধারণার জন্ম হয়েছিল, সেটা আজ কোটি কোটি মানুষের পকেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে — বেশিরভাগ মানুষ জানেও না।
শেষ কথা
Unix-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো কোনো feature নয়। সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো — এটা মানুষকে একটা চিন্তার ধারা দিয়ে গেছে। সহজ রাখো। মডুলার রাখো। একটাই কাজ ভালো করো।
১৯৬৯ সালে Bell Labs-এর একটা ছোট্ট প্রজেক্ট থেকে শুরু হয়ে Unix আজ সর্বত্র। সার্ভার থেকে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ থেকে মহাকাশযান — সব জায়গায় তার ছাপ। প্রযুক্তির দুনিয়ায় এতটা প্রভাব সত্যিই বিরল।